খালি তালপাতার পাতা ও রাতের আকাশে ওঠা আলোর মালা
শ্রী মীনানন্দ ফাউন্ডেশনের জন্য তৈরি ব্যাখ্যামূলক চিত্র।

গুহ্য জ্ঞান

শব্দকোষ

ফিরে ফিরে আসা সংস্কৃত ও পাঠশব্দের সরল সংজ্ঞা।

এই পাতাগুলি শিক্ষামূলক। এগুলি দীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ, বা জীবন্ত গুরুর বিকল্প নয়।

আচার (Ācāra)
আচরণ, পালন বা সাধনার রীতি; শ্রেণি গ্রন্থভেদে ভিন্ন।
আগম (Āgama)
“যা নেমে এসেছে”; প্রকাশিত শাস্ত্র বা শাস্ত্রশ্রেণি, বিশেষত শৈব, শাক্ত ও বৈষ্ণব পরিসরে।
আম্নায় (Āmnāya)
সঞ্চার, পবিত্র স্রোত বা দিকগত প্রকাশ; প্রায়ই বংশনির্দিষ্ট প্রকল্পে ব্যবহৃত।
ভৈরব (Bhairava)
শিবের উগ্র ও অতিক্রান্ত রূপ/নাম, কয়েকটি তান্ত্রিক পরম্পরার কেন্দ্রে।
ভক্তি (Bhakti)
ভক্তি, দিব্যের সঙ্গে প্রেমময় অংশগ্রহণ বা সম্পর্ক।
বীজ (Bīja)
“বীজ”; দেবতা বা শক্তির সঙ্গে যুক্ত সংক্ষিপ্ত মন্ত্রাক্ষর। অনেক ব্যবহার দীক্ষানির্দিষ্ট।
চক্র (Cakra)
চাকা, বৃত্ত বা কেন্দ্র; সূক্ষ্মদেহ মানচিত্রে কয়েকটি সম্ভাব্য পদ্মসদৃশ কেন্দ্রের একটি। ব্যবস্থা ভিন্ন।
দর্শন (Darśana)
পবিত্রকে দেখা ও দেখা হওয়া; দার্শনিক দৃষ্টি বা মতও।
দেবী (Devī)
দেবী; “দীপ্ত/দিব্য সত্তা।”
দীক্ষা (Dīkṣā)
দীক্ষা বা অভিষেক যা সাধকের পথের সম্পর্ককে অধিকার দেয় ও রূপান্তর করে।
গুরু (Guru)
আধ্যাত্মিক ভার বা কর্তৃত্বের শিক্ষক; ভূমিকা নৈতিক জবাবদিহি তুলে দেয় না।
গুহ্য (Guhya)
লুকানো, গোপন, অন্তরস্থ, রক্ষিত বা গূঢ়।
জ্ঞান (Jñāna)
জ্ঞান, অন্তর্দৃষ্টি বা মুক্তিদায়ী বোধ।
কৌল (Kaula)
*কুল* (“পরিবার,” “সমগ্রতা,” “দেহধারী দল”) এর সঙ্গে যুক্ত তান্ত্রিক স্রোতের বিস্তৃত পরিবার, উৎসভেদে ভিন্ন ব্যাখ্যা।
কালীকুল (Kālīkula)
কালী ও সংশ্লিষ্ট রূপকে কেন্দ্র করা দেবীপরম্পরার পরিবার।
কুণ্ডলিনী (Kuṇḍalinī)
“কুণ্ডলীকৃত”; যোগিক ও তান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভিন্নভাবে বর্ণিত রূপান্তরকারী শক্তি।
মণ্ডল (Maṇḍala)
অনুষ্ঠান ও ধ্যানে ব্যবহৃত গঠিত পবিত্র ক্ষেত্র, বৃত্ত, অধিক্ষেত্র বা চিত্র।
মন্ত্র (Mantra)
নির্দিষ্ট পরম্পরায় ব্যবহৃত অভিষিক্ত ধ্বনিরূপ, অক্ষর, নাম, বাক্য বা শ্লোক।
মুদ্রা (Mudrā)
মুদ্রা, ইঙ্গিত বা দেহগঠন; অর্থ শিল্প ও অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গে নির্ভর করে।
নাড়ি (Nāḍī)
সূক্ষ্মদেহ মানচিত্রের প্রণালী; স্নায়ু বা রক্তনালীর অভিন্ন নয়।
ন্যাস (Nyāsa)
অনুষ্ঠানিক “স্থাপন” বা বসানো, প্রায়ই দেহে মন্ত্র বা দেবতাংশ; বিস্তারিত ক্রম নিষিদ্ধ হতে পারে।
পাঞ্চরাত্র (Pāñcarātra)
নারায়ণ/বাসুদেব পূজার সঙ্গে যুক্ত প্রধান বৈষ্ণব শাস্ত্র ও অনুষ্ঠানপরম্পরা।
প্রাণ (Prāṇa)
জীবনশ্বাস বা প্রাণপ্রক্রিয়া; অর্থ সাধারণ শ্বাসক্রিয়ার বাইরেও যায়।
প্রত্যভিজ্ঞা (Pratyabhijñā)
চেনা; বিশেষত চেতনার সর্বজনীন স্বভাব চেনার অদ্বৈত শৈব দর্শনের সঙ্গে যুক্ত।
পূজা (Pūjā)
দিব্য উপস্থিতির প্রতি অর্পণ, মনোযোগ ও আতিথেয়তার মধ্য দিয়ে পূজা।
পুরাণ (Purāṇa)
সৃষ্টিতত্ত্ব, বংশতালিকা, পবিত্র স্থান, দেবতা ও ভক্তি নিয়ে সংস্কৃত আখ্যান ও ধর্মগ্রন্থের বিস্তৃত শ্রেণি।
সাধনা (Sādhana)
সিদ্ধি বা ধর্মলক্ষ্যে মুখ করা শাসিত চর্চা।
সম্প্রদায় (Sampradāya)
সঞ্চারিত ধর্মসম্প্রদায়, শিক্ষাবংশ বা পরম্পরা।
শৈব (Śaiva)
শিব বা শৈব পরম্পরা সংক্রান্ত।
শাক্ত (Śākta)
শক্তি/দেবী বা দেবীপরম্পরা সংক্রান্ত।
শক্তি (Śakti)
ক্ষমতা, সামর্থ্য বা দিব্য শক্তি; শাক্ত পরম্পরায় পরম সত্তা হিসেবে দেবীও।
শ্রীচক্র (Śrīcakra)
শ্রীবিদ্যার কেন্দ্রীয় পবিত্র চিত্র; সাধারণ সাজসজ্জার জ্যামিতি নয়।
শ্রীকুল (Śrīkula)
শ্রী/ত্রিপুরসুন্দরীমুখী দেবীপরম্পরা, বিস্তৃত শ্রেণিতে প্রায়ই কালীকুলের বিপরীতে বলা হয়।
সিদ্ধি (Siddhi)
সিদ্ধি, পূর্ণতা বা অসাধারণ সামর্থ্য; শক্তিঅন্বেষণ নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে বিতর্কিত।
তন্ত্র (Tantra)
প্রসঙ্গে শাস্ত্র, ব্যবস্থা, মত, অথবা এই সংকলনে আলোচিত পরম্পরার বিস্তৃত পরিবার।
তত্ত্ব (Tattva)
নীতি, সত্তাশ্রেণি বা উপাদান যা প্রকাশ ও অভিজ্ঞতা ম্যাপ করে।
উপনিষদ (Upaniṣad)
পরম সত্তা, আত্মা, জ্ঞান, মৃত্যু, অনুষ্ঠানের অন্তরীকরণ, ভক্তি ও পরবর্তী যোগধারণা নিয়ে বৈচিত্র্যময় গ্রন্থদেহ। একক গণনা নেই: পারম্পরিক তালিকায় ১০৮; মুখ্য দল প্রায় দশ থেকে তেরো সবচেয়ে বেশি পড়ানো হয়।
বজ্রযান (Vajrayāna)
“হীরক/বজ্রযান”; তান্ত্রিক বৌদ্ধ পথের বিস্তৃত নাম, অভ্যন্তরে বৈচিত্র্যময়।
বেদ (Veda)
প্রাচীন, স্তরিত সংস্কৃত প্রকাশ। বেদ চারটি: ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ, প্রতিটির সঙ্গে সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ স্তর।
যন্ত্র (Yantra)
যন্ত্র বা পবিত্র চিত্র যার পরিচয় নির্দিষ্ট দেবতা, গ্রন্থ ও ব্যবহারের।